মিজানুর রহমান রংপুর
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 8:27 PM
অযত্ন-অবহেলায় পৌরসভার কবরস্থান, উন্নয়নের দাবি এলাকাবাসীর
রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পীরগঞ্জ মৌজায় অবস্থিত সরকারি কবরস্থানটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। প্রায় ২৪ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত কবরস্থানটিতে নেই কোনো সীমানাপ্রাচীর বা নিরাপত্তাবেষ্টনী। ফলে কবরস্থানটি দিন দিন অরক্ষিত হয়ে পড়ছে। অবাধে বিচরণ করছে কুকুর, শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রাণী ও গবাদিপশু।
এতে কবরের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় বহু বছর আগে। স্থানীয় আব্বাস আলী তালুকদারের ছেলে আহাদ আলী তালুকদার ওরফে ট্যানা তালুকদার কবরস্থান তৈরির উদ্দেশ্যে ১০ শতাংশ জমি দান করেন।
পরবর্তীতে সমাজসেবক হাজী বয়েন উদ্দিন ও হাজী দছিম উদ্দিন মন্ডলের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আরও ১৪ শতাংশ জমি কবরস্থানের জন্য সংগ্রহ করা হয়।
কবরস্থান প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করেন। তাঁদের অনেকের নাম বর্তমানে জানা না গেলেও কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠায় তাঁদের অবদান স্থানীয়দের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। এছাড়া মরহুম মুফাক্ষরুল হক বাবু ডাক্তারও কবরস্থান প্রতিষ্ঠায় আর্থিক সহায়তা করেছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় কয়েকটি পরিবার সেখানে তাদের স্বজনদের দাফন করে আসছে।
পরবর্তীতে কবরস্থানটি পৌরসভার সরকারি কবরস্থান হিসেবে ঘোষিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। নেই সীমানাপ্রাচীর, নেই পর্যাপ্ত পরিচর্যা কিংবা নিরাপত্তার ব্যবস্থা। ফলে কবরস্থানটি অনেকটা উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে আছে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরমান আলী তালুকদার বলেন, কবরস্থানটির উন্নয়নের জন্য বিগত সরকারের সময় পৌরসভার মেয়রের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বর্তমানে কবরস্থানটি দ্রুত সংস্কার ও সুরক্ষার আওতায় আনা প্রয়োজন।৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সাইফুল আজাদ বলেন, সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মাহমুদুল হাসান কবরস্থানটির উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে বদলি হয়ে যাওয়ায় তিনি সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কবরস্থানটির উন্নয়নের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এলাকাবাসীর দাবি, এটি শুধু একটি কবরস্থান নয়, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান। তাই দ্রুত কবরস্থানটির সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মাটি ভরাট ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হোক। অরক্ষিত অবস্থায় থাকা কবরস্থানটি দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় এনে একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সরকারি কবরস্থান হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।