নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 4:40 PM
জলবায়ুর ক্ষতি থেকে বাচতে ,পীরগঞ্জের তরুণের নতুন উদ্যোগ
মোঃ মিজানুর রহমান পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীভাঙনসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবিকা ও জীবনযাত্রায় তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার অনেক পরিবারের জন্য টেকসই আয়ের সুযোগ তৈরি করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এমন বাস্তবতায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নারীদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন পীরগঞ্জ, রংপুরের তরুণ মোঃ হৃদয় হোসাইন। তার এই উদ্যোগের নাম REBOSTRO।
উদ্যোগটির মূল ধারণা হলো বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া অব্যবহৃত ও উদ্বৃত্ত টেক্সটাইল পুনঃব্যবহার করে নতুন পণ্য তৈরি করা। পাশাপাশি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের বিদ্যমান দক্ষতাকে উৎপাদন ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব পাঞ্জোরভাঙ্গা গ্রামে ৪০টি পরিবারের ওপর মাঠপর্যায়ের জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপের মাধ্যমে স্থানীয় নারীদের কাজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নতুন কাজ শেখার আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আগে থেকে বিভিন্ন কাজে দক্ষ এবং নতুন করে কাজ শেখার আগ্রহী নারীদের নিয়ে ২৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মধ্য থেকে ১২ জন নারীকে নির্বাচন করে উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
স্থানীয় নারীদের দক্ষতা ও উদ্বৃত্ত টেক্সটাইলকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে কাঁথা, পাপোশ, ন্যাপকিন, পোশাকসহ বিভিন্ন ব্যবহারিক পণ্য। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত কাপড় ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে নান্দনিক টেক্সটাইল ওয়াল আর্ট, যা ঘরের দেয়াল অথবা টেবিল সাজানোর কাজে ব্যবহার করা যায়।
উদ্যোগটির বিশেষ দিক হলো, শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। প্রশিক্ষণের পর অংশগ্রহণকারীদের তৈরি পণ্য সংগ্রহ করে সেগুলো বাজারজাত ও বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতাকে বাস্তব উৎপাদন ও আয়ের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উদ্যোক্তা মোঃ হৃদয় হোসাইন বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য শুধু উদ্বৃত্ত কাপড়কে নতুন পণ্যে রূপ দেওয়া নয়। আমরা এমন মানুষদের দক্ষতার সঙ্গে কাজের সুযোগ যুক্ত করতে চাই, যাদের কাজ করার সক্ষমতা ও আগ্রহ রয়েছে, কিন্তু নিয়মিত কাজের সুযোগ সীমিত। একই সঙ্গে অব্যবহৃত টেক্সটাইলের পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে অপচয় কমানোর চেষ্টা করছি।”
তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় দেখা গেছে, অনেক নারীরই নকশিকাঁথা, কাঁথা সেলাই, পোশাক তৈরি, মেশিনে কাজ ও বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্পের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসব দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েই তাদের উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মোঃ হৃদয় হোসাইনের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য শুধু সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ তৈরি করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে তা আরও কার্যকর হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা ছোট পরিসরে শুরু করেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো উৎপাদন বাড়ানো, নতুন বাজার ও ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং পর্যায়ক্রমে আরও বেশি মানুষকে এই উদ্যোগের আওতায় আনা।”
উদ্বৃত্ত টেক্সটাইলের পুনঃব্যবহার এবং স্থানীয় মানুষের দক্ষতাকে উৎপাদন ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।