বিশেষ প্রতিবেদক
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 7:19 PM
নোয়াখালীর নূরুল আলম নাম বদলে এখন মির্জা গালিব
নোয়াখালীর নূরুল আলম নাম বদলে ঢাকায় এখন মির্জা গালিব । সরকার পরিবর্তনের পর নাম বদলে ফেলা এই গালিবের মূল ব্যবসা হচ্ছে সরকারের উবর্ধতনমহলে নারী সাপ্লাই দেয়া। এ কাজে তার খ্যাতি পুুরো নোয়াখালী এলাকায় ছড়ানো আছে। একাধিক সংসার থাকায় খরচ জোগাতে ভর করেন এলাকার লোকদের উপর। নিজের কোন চাকুরি বা ব্যবসা নেই । অথচ চলাচাল করে ভিভিআইপিদের সাথে। বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি নামে একটি সমিতি গঠন করে তার মাধ্যমে ছাত্রীদের বৃত্তি দেয়ার প্রলোভন সৃষ্টি করে প্রথমে কলেজ ছাত্রীদের নং সংগ্রহ করে। পরে সেই ছাত্রীদের মধ্য থেকে বেছে নিয়ে হাজির করে প্রভাবশালীদের মনোরঞ্জনে। এমন অভিযোগ রয়েছে এই বদলে যাওয়া নুরুল আলমের বিরুদ্ধে।
সরকার পরিবর্তনের পর নাম পরিবর্তন করে এই সেই মির্জা গালিব হওয়া ফ্যাসিস্টের দোসর বলে খ্যাত ব্যক্তি নিজেই সংগঠন তৈরী করে নোয়াখালী নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠন তৈরী করে নিজেই সভাপতি এবং তার আস্থাভাজনদের বিভিন্ন পদে অধিষ্টিত করে লুটে নিচ্ছে অজস্র টাকা। তার কৌশলই হচ্ছে, বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কিভাবে ঘনিষ্ট হয়ে কাজ ভাগানো যায়।
এর আগে সে আওয়ামীলীগ সরকারের সময় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আস্থাভাজন হিসেবে নানাবিধ সুবিধা গ্রহন করেছিল।অন্যতম হল তার প্রথম সংসারের বড় ছেলেকে বিকেএসপিতে ওবায়দুল কাদেরের সুপারিশেভর্তিসহ নানাবিধ সুবিধা নেয়া। জানা যায়, সে ওবায়দুল কাদেরের অন্যতম নারী সরবরাহকারিদের একজন ।
তত্ত্বাবধায় সরকারের সময় উপদেষ্টাদের বাসায় বিভিন্ন খাবারাদি নিয়ে গিয়ে তদবির বানিজ্য করা ছিলো তার পেশা। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে খোলস পরিবর্তন করে বিএনপি' র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সাথে নিজ ছেলেসহ ফটোসেশন করে তা প্রচার করে এখন হয়ে গেছেন বিএনপির আস্থাভাজনদের একজন।
শুরু করেছেন তদবির বানিজ্য । ইদানিং প্রভাব শালী সিাবেক সচিব ও বর্ত মানে ব্সিএনপি স্মাথায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবি উল্যাহ, সচিব সমাজ কল্যাণ ড.আবু ইউসুফসহ অনেকেরই নামভাঙিয়ে ব্যাপক তদ্বির বানিজ্য করে চলেছেন। বদলি ও চাকুরিতে এক্সটেনশন নিয়ে দেয়াসহ সব কিছু এখন নাকি তার হাতের মুঠোয়।
নোয়াখালীর নাম ভাঙিয়ে নানা অনু্ষ্ঠান আয়োজনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সে বড় বড় কর্মকর্তাদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠা তার তার কৌশল ।
এরই ধারাবাহিকতায় মহিলা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ঢাকাস্থ নোয়াখালীর ছাত্রীদের বৃত্তি দেয়ার অভিনব কৌশল নেয় সে। তাতে আগত বিভিন্ন অতিথিদের মন অতি সহজে জয় করা যায় এবং উপার্জন করা যায় মোটা অংক।
এই চতুর মির্জা গালিবের রয়েছে একাধিক পরিবার । একটি শেওড়াপাড়া,আরেকটি নিজ বাড়ী মাইজদিতে। স্বামী পরিত্যাক্তা নিজ মেয়েকে সদ্য রংপুরে বদলী হওয়া এক কাস্টমস কমিশনারের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার জন্য সে নিজেই সহযোগিতা করছে বলে অনেকেরই ভাষ্য।
কাউকে চাকরির এক্সটেনসেন, কাউকে চাহিত দপ্তরে বদলীর ব্যবস্থা করে দিবে বলে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। নোয়াখালিতে তার নাম নূরুল আলম, ঢাকাতে মির্জা গালিব।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেক ফায়দা লুটেছেন। তার জলন্ত প্রমান ভ্যাট কমিশনার রাশেদকে বদলীর নামে ৫০ লাখ টাকার লেনদেন। বর্তমানে শুরু করেছে উপদেষ্টা ইসমাইল জবি উল্ল্যাহর নাম ।
কট্রর ফ্যাসিস্টের দোসর হওয়া স্বত্ত্বেও কেন এই ব্যক্তি বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে দাপটের সহিত কাজ করে যাচ্ছে, কারা তাকে মন্ত্রণালয়ে অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে ? এবিষয়ে নিয়ে নোয়াখালীসহ সারা দেশের মানুষের মাঝে কৌতুহল বাড়ছে । জানা যায়, তার হাতিয়ার হচ্ছে বৃহত্তর নোয়াখালী কল্যাণ সমিতি। উল্লেখযোগ্য কোন ব্যক্তি এই সংগঠনে নেই বললেই চলে। তার সাথে রয়েছে আস্থাভাজন ফ্যাসিস্টের কয়েকজন।
তার সংগঠনে নোয়াখালী বহিভূত কিছু লোকজন রয়েছে।যাদেরকে দিয়ে তার অপকর্ম বাহিরে প্রকাশ হবে না সেধরনের লোকজন। বিভিন্ন কলেজের ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদানের কথা বলে বিভিন্ন লোভ লালসার আশ্বাস দিয়ে মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থিত করে।এ ভাবে বড় কর্ম কর্তাদের আস্থাভাজন হয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এভাবেই কি আমাদের সমাজ পরিচালিত হবে? কে হাল ধরবে ঘুনে ধরা সমাজকে পরিপূর্ণ টেকসই করতে? তাই সময় এসেছে, এধরনের ব্যক্তিকে পরিহার করে ঘুনে ধরা সমাজ থেকে বেরিয়ে এসে মানবিক ও মানবতার সমাজে ধাবিত হওয়ার। তবেই এই দেশ সোনার বাংলাদেশে রূপান্তরিত হতে বেশী সময় লাগবে না। তাতেই বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। একতা,বিশ্বস্ততা ও শৃঙ্খলা হোক আমাদের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।
এতসব অভিযোগের বিরুদ্ধে জানতে মির্জা গালিবের সাথে যোগেযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।