মোঃরাজিব উদ্ দৌলা চৌধুরী
০৮ জুন, ২০২৬, 3:05 PM
প্রান্তিক ব্যবসায় ভ্যাট কাঠামো চালু হচ্ছে ন্যূনতম ১ হাজার, সর্বোচ্চ ১০ হাজার
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট ব্যবস্থায় নতুন কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ব্যবসার ধরন ও পরিসর অনুযায়ী মাসিক ন্যূনতম ১ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভ্যাট নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য জটিল হিসাব ভিত্তিক ভ্যাট ব্যবস্থার পরিবর্তে সহজ ও নির্ধারিত অঙ্কের ভ্যাট আরোপের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এর ফলে ছোট ব্যবসায়ীদের নিয়মিত হিসাব সংরক্ষণ ও ভ্যাট নির্ধারণের জটিলতা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় ও ব্যবসার পরিধি ভিন্ন হওয়ায় একটি স্তরভিত্তিক কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে কম আয়ের ব্যবসায়ীদের ওপর করের চাপ সীমিত রাখা হবে, আবার তুলনামূলক বড় পরিসরের ব্যবসাগুলো থেকে ন্যায্য রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ব্যবসায়ী মহলের একাংশ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট থাকলে কর পরিশোধের বিষয়ে অনিশ্চয়তা কমবে এবং করদাতাদের মধ্যে স্বেচ্ছায় রাজস্ব প্রদানের প্রবণতা বাড়বে। একই সঙ্গে রাজস্ব প্রশাসনের জন্যও তদারকি ও আদায় কার্যক্রম সহজ হবে।
তবে কিছু ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, ভ্যাটের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যবসার প্রকৃত আয়, অবস্থান ও আর্থিক সক্ষমতাকে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জন্য নির্ধারিত ভ্যাটের পরিমাণ অতিরিক্ত চাপের কারণ হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কর ব্যবস্থাকে সহজ ও অংশগ্রহণমূলক করতে হলে প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের করজালের আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের জন্য অনলাইন নিবন্ধন, সহজ পরিশোধ ব্যবস্থা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
আসন্ন বাজেট ঘোষণার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। তখন ভ্যাটের আওতায় কোন ধরনের ব্যবসা পড়বে এবং কোন শ্রেণির ব্যবসার জন্য কত টাকা নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।