মোঃরাজিব উদ্ দৌলা চৌধুরী
১০ জুন, ২০২৬, 12:18 PM
বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব আহরণে ভারসাম্য নিয়ে তামাক খাতে নতুন কর কাঠামোর প্রস্তাব
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণ এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যকে সামনে রেখে আসন্ন জাতীয় বাজেটে তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ওপর নতুন কর ও মূল্য কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ উদ্যোগ একদিকে যেমন জনগণকে ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব যোগ করবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ এবং অতি উচ্চ—এই চারটি স্তরে ন্যূনতম খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরের ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের সিগারেটের মূল্য ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি তরুণ ও নতুন ধূমপায়ীদের তামাক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করবে।
একই সঙ্গে মূল্যভিত্তিক কর ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আহরণও বাড়বে, যা জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নিকোটিন পাউচ (Nicotine Pouch)-এর ক্ষেত্রেও কঠোর করনীতি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতি ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি এর ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি রোধে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, আধুনিক তামাকজাত পণ্য হিসেবে পরিচিত হিটেড টোব্যাকো (Heated Tobacco)-এর ওপরও উচ্চ হারে কর আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২১০ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি এর ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রচলিত সিগারেটের বিকল্প হিসেবে বাজারে আসা এসব পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ কার্যকর হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, তামাক খাতে কর ব্যবস্থার এই সংস্কার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও কর বৃদ্ধিকে তামাক নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত কর কাঠামো সরকারের দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী নীতির প্রতিফলন। এর মাধ্যমে একদিকে জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস পাবে, অন্যদিকে জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংগ্রহ আরও শক্তিশালী হবে।
সামগ্রিকভাবে, আসন্ন বাজেটে তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত কর ও মূল্য কাঠামোকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রাজস্ব আহরণের মধ্যে একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী সমন্বয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা একটি সুস্থ, সচেতন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সরকারের অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করবে।