মোঃরাজিব উদ্ দৌলা চৌধুরী
০৪ জুন, ২০২৬, 3:07 PM
সরকারি চাকরিতে বয়স সীমা তুলে দেয়ার চিন্তা করছে সরকার
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমার প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মক্ষমতাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, কর্মঠ ও যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশেই সরকারি ও বেসরকারি খাতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের চেয়ে দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, নেতৃত্বগুণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশেও প্রশাসনকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে এমন একটি নীতি বিবেচনায় আনা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিপুল সংখ্যক দক্ষ নাগরিক বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত বয়সসীমার বাইরে চলে যাওয়ার পরও কর্মক্ষম ও যোগ্য থাকেন। বয়সের কারণে তাদের রাষ্ট্রীয় সেবায় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।
বয়সের বাধা শিথিল বা তুলে দেওয়া হলে প্রশাসনে অভিজ্ঞ মানবসম্পদ যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ইতোমধ্যে ৩২ বছরে উন্নীত করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে এ-সংক্রান্ত বিলও পাস হয়েছে।তবে নতুন করে বয়সের পরিবর্তে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার ধারণা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, বয়সসীমা শিথিল করা হলে একদিকে যেমন মেধাবী ও অভিজ্ঞ জনশক্তিকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে সরকারি সেবার মানও উন্নত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ যাতে সংকুচিত না হয়, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বয়সের পরিবর্তে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, পেশাগত দক্ষতার মূল্যায়ন, স্বাস্থ্যগত সক্ষমতা এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে রাষ্ট্র উপকৃত হবে। এতে সরকারি চাকরি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আধুনিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাবে।
যদিও এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবুও দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, চাকরিপ্রার্থী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে।