নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ এপ্রিল, ২০২৬, 4:40 PM
আলোয় ফেরার আহ্বান: জ্ঞান, হালাল রিজিক ও কবুলযোগ্য আমল।
মানবজীবনের প্রকৃত সাফল্য কোথায়—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা প্রায়ই বাহ্যিক অর্জন, ক্ষমতা বা সম্পদের দিকে তাকাই। অথচ প্রকৃত সফলতা নিহিত রয়েছে জ্ঞান, নৈতিকতা ও সৎকর্মের মধ্যে। এমন এক সময় আমরা পার করছি, যখন জ্ঞানের বিস্তার ঘটছে ঠিকই, কিন্তু আলোর পথের জ্ঞান যেন ক্রমেই আড়াল হয়ে যাচ্ছে।
একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সেই জ্ঞান, যা তাকে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে শেখায় এবং ন্যায়ের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে। এই জ্ঞানই মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসে। তাই প্রয়োজন এমন জ্ঞানের, যা শুধু তথ্যের ভাণ্ডার নয়, বরং মানবিকতা ও নৈতিকতার আলোকবর্তিকা।
একইভাবে জীবিকার ক্ষেত্রেও হালাল ও বরকতময় রিজিকের গুরুত্ব অপরিসীম। অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ হয়তো সাময়িক স্বস্তি এনে দিতে পারে, কিন্তু তা কখনো স্থায়ী শান্তি বা কল্যাণ বয়ে আনে না। বরং হালাল উপার্জন, যতই সীমিত হোক না কেন, জীবনে প্রশান্তি ও সন্তুষ্টি এনে দেয়।
অন্যদিকে, আমল বা কর্মের ক্ষেত্রেও আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি। কেবল কাজ করাই যথেষ্ট নয়, সেই কাজের গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ। যে আমল নিঃস্বার্থভাবে, আন্তরিকতার সঙ্গে এবং সঠিক নিয়তে করা হয়—সেই আমলই কবুল হওয়ার যোগ্য। তাই বাহ্যিক প্রদর্শনের পরিবর্তে অন্তরের বিশুদ্ধতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
অতএব, আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই তিনটি মূল ভিত্তিকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা—আলোকিত জ্ঞান, হালাল ও বরকতময় রিজিক এবং কবুলযোগ্য আমল। এই পথই ব্যক্তি, সমাজ ও জাতিকে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারে।
আসুন, আমরা এমন জীবনের প্রত্যাশা করি—যেখানে জ্ঞান আলোর দিশা দেখায়, রিজিক হয় পবিত্র ও বরকতময়, আর আমাদের প্রতিটি আমল হয়ে ওঠে গ্রহণযোগ্য।