ঢাকা ৩০ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান- প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক ও পরিকল্পনা উপদেষ্টার রেলওয়ে সিসিএস দপ্তরে আগুনের নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ফ্যাসিস্ট ও দূর্নীতির নায়কের প্রমোশনে : রেল প্রশাসনে হাতাশা নোয়াগাঁ ইউনিয়নে পোস্টার বিতর্ক: বিএনপি নেতার পদবি নিয়ে বিভ্রান্তি আড়াইহাজারে প্রবাসী সালাউদ্দিন মোল্লার মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া রেলওয়েতে ছাত্রদল নেতাকে সরিয়ে আওয়ামী দোসর আনোয়ার লতা গ্রুপ চেয়ারম্যান এর ঈদ-উল ফিতরের শুভেচ্ছা ৪১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল পার্থী আনোয়ার হোসেন এর ঈদ শুভেচ্ছা ঈদ-উল ফিতরে এড. নজরুল ইসলামের শুভেচ্ছা কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস ওয়ার্ল্ড-এর আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

কেরানীগঞ্জে অনুমোদনহীন এলপিজি বটলিং প্লান্ট পরিচালনার অভিযোগ

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ মার্চ, ২০২৬,  2:40 PM

news image


ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বোয়ালি মৌজার কোনাখোলা রাজাবাড়ি রোডে অনুমোদনহীনভাবে একটি এলপিজি বটলিং ও রিফিলিং প্লান্ট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সরকারি বিধিমালা না মেনেই দীর্ঘদিন ধরে সেখানে গ্যাস রিফিলিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোনাখোলা রাজাবাড়ি রোডে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পেছনে ‘কেরানীগঞ্জ স্যাটেলাইট এলপিজি প্লান্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ম্যানেজার মো. জসিমের তত্ত্বাবধানে চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডারে অবৈধভাবে গ্যাস রিফিলিং করা হয়।

এছাড়া সেখানে ভূ-উপরিস্থ অবস্থায় ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ৩ টি গ্যাসাধার স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এলপিজি বিধিমালা-২০০৪ অনুযায়ী এ ধরনের গ্যাসাধারের চারপাশে কমপক্ষে ৮ ফুট নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না এবং সীমিত জায়গার মধ্যেই পাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একজন ব্যক্তি এই এলপিজি রিফিলিং প্লান্ট পরিচালনা করছেন। তাদের ভাষ্য, “এত অল্প জায়গার মধ্যে এত বড় গ্যাস রিফিলিং পাম্প কীভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাদের বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, তা নিয়েও আমাদের সন্দেহ রয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে এখানে সব থেকে উদ্বেগের বিষয় এলপিজি প্লান্টটির ১০০ গজের ভিতরে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ ৪ এর কোনাখোলা সাবস্টেশন অবস্থিত। এটি একটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কে পি আই স্থাপনা।

এটি অত্যন্ত অগ্নি সংবেদনশীল একটি স্থাপনা। এলপিজি প্লান্টে যেকোনো সময় অগ্নিকাণ্ড জনিত দুর্ঘটনা সংঘটিত হলে মুহূর্তেই প্ল্যান্টের ৫০০০০ লিটার এলপিজি ধারণ ক্ষমতার বিশালাকৃতির একাধিক কনটেইনার বিস্ফোরিত হতে পারে, যার ফলশ্রুতিতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পার্শ্ববর্তী সরকারি শত কোটি টাকা মূল্যের সাব স্টেশন।

সরেজমিনে এলপিজি প্লান্টটিতে যেয়ে দেখা যায় এটি একটি জনবহুল এলাকার ভিতরে অবস্থিত। এখানে যেকোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ড জনিত দুর্ঘটনা ঘটলে পার্শ্ববর্তী অসংখ্য মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

স্থানীয়রা আরও জানান, এখানে বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাসের সিলিন্ডার রিফিলিং করা হয়। তবে দিনের বেলায় তেমন কোনো গাড়ি দেখা যায় না। বেশিরভাগ সময় রাত ১২ টার দিকে ট্রাক আসতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ স্যাটেলাইট এলপিজি প্লান্টের ম্যানেজার মো. জসিমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টায় একাধিকবার তার মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, প্লান্টটি ফায়ার সার্ভিস অফিসের পেছনে হওয়ায় বিষয়টি জানতে সেখানে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টেশন অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এখানে এসেছি মাত্র কয়েক মাস হলো এই বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো পরিপূর্ণ অবগত নই।

এলপিজি প্লান্ট এর ফায়ার লাইসেন্স এর বিষয়ে কথা বলতে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স তিনি দেননি বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠান টি তাদের লাইসেন্স নবায়ন ও করছে না, এ বিষয়ে তারা ইতিমধ্যে নোটিশ প্রদান করেছেন বলেও তিনি জানান।


গ্যাস প্লানটটি কোনাখোলা বৈদ্যুতিক সাব স্টেশনের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এ বিষয়ে জানতে আমরা মুখোমুখি হই ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ ৪ এর অপারেশন এন্ড মেইন্টেনেন্স বিভাগের এজিএম এ এস এম মোশাররফ হোসেন নান্নুর। তিনি জানান এই বিষয়টি স্পর্শকাতর তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক এর মতামত জানতে তার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি জানান এ বিষয়ে তিনি অবগত নন, বিষয়টি সম্পর্কে অতি শীঘ্রই তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের গ্যাস রিফিলিং কার্যক্রম বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই জনগণের জানমাল রক্ষার স্বার্থে ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কে, পি, আই স্থাপনা তথা কোটি কোটি টাকার কোনাখোলা বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত সাপেক্ষে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ জাহিদুল ইসলাম