ঢাকা ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশঃ জাতিসংঘে জিয়া পরিবারের অনবদ্য ধারাবাহিকতা জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনিক জটিলতার প্রতিবাদে মাদারগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ১ অক্টোবর উদ্বোধন, দুই রুটে চলবে বিআরটিসির এসি বাস পরীক্ষা শেষে জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : ইসি আনোয়ারুল প্রশাসনিক জটিলতার প্রতিবাদে মাদারগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন কেশবপুরে নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান টিটো(৪৬) গ্রেফতার মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশে মানবপাচার মাফিয়াখ্যত কে এই নাজমুল সমাজসেবক চাঁন মিয়া’কে- কাউন্সিলর হিসেবে’ পাওয়া সময়ের’ দাবি -৫৩ নং ওয়ার্ড (সচেতন) নাগরীকবৃন্দ জামাল পরিবারের নেতৃত্বে মুগদা এলাকায় বেপরোয়া মাদক ব্যবসা : থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শত কোটি টাকার কাগুজে নদী খননের অভিযোগ

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ এপ্রিল, ২০২৬,  8:32 PM

news image

*  সুফল নেই নৌপথে

* নাব্যতা সংকট চলছে:  প্রশ্নের মুখে ড্রেজিং কার্যক্রম

দেশের নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষা ও নৌপথ সচল রাখতে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয়ে ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও এর কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে। বিভিন্ন নৌপথে খনন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে নাব্যতার উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নৌযান সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নৌপথ—যেমন আরিচা-কাজীরহাট, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া, ভৈরব-আশুগঞ্জ ও মোংলা-ঘষিয়াখালী রুটে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোথাও কোথাও খননের পরও দ্রুত পলি জমে নাব্যতা কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ড্রেজিং কার্যক্রমে জ্বালানি ব্যবহার ও যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগও রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ড্রেজার সচল না থাকলেও জ্বালানি ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

নিয়ম অনুযায়ী খননকৃত মাটি নদীর নির্দিষ্ট দূরত্বে ফেলার কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনেক সময় মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নদীর তলদেশে পুনরায় পলি জমে একই স্থানে বারবার খননের প্রয়োজন হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে, সরকারি ড্রেজার বহর থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি ড্রেজার ভাড়ার ওপর নির্ভরতা বাড়ার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নৌযান মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, নাব্যতা সংকটের কারণে অনেক সময় নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ রুটে জাহাজ আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ড্রেজিং কার্যক্রমে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা উন্নয়নে কাজ চলছে। অনিয়মের অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।

নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রেজিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি জোরদার না করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সামগ্রিকভাবে, নদী খননে বিপুল ব্যয়ের পরও নৌপথে প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে কথা বলতে   প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) রকিবুল ইসলাম তালুকদার এর মুঠোফোনে ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ জাহিদুল ইসলাম