ঢাকা ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশঃ জাতিসংঘে জিয়া পরিবারের অনবদ্য ধারাবাহিকতা জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনিক জটিলতার প্রতিবাদে মাদারগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ১ অক্টোবর উদ্বোধন, দুই রুটে চলবে বিআরটিসির এসি বাস পরীক্ষা শেষে জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : ইসি আনোয়ারুল প্রশাসনিক জটিলতার প্রতিবাদে মাদারগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন কেশবপুরে নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান টিটো(৪৬) গ্রেফতার মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশে মানবপাচার মাফিয়াখ্যত কে এই নাজমুল সমাজসেবক চাঁন মিয়া’কে- কাউন্সিলর হিসেবে’ পাওয়া সময়ের’ দাবি -৫৩ নং ওয়ার্ড (সচেতন) নাগরীকবৃন্দ জামাল পরিবারের নেতৃত্বে মুগদা এলাকায় বেপরোয়া মাদক ব্যবসা : থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

চনপাড়ার অপরাধজগতের নেপথ্যে মোক্তারকে ঘিরে নানা অভিযোগ (পর্ব-১)

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  8:37 PM

news image

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গ্রুপের আধিপত্যের অভিযোগ রয়েছে। 


এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে মোক্তার হোসেনের নামও উঠে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৮ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করে একপর্যায়ে তিনি চনপাড়ার অপরাধজগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মোক্তার হোসেনের বাবা সবজি বিক্রি করতেন।

২০১৯ সালের ২৬ জুন কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী বিউটি আক্তার ওরফে কুট্টি খুন হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বজলু মেম্বার সরাসরি জড়িত ছিলেন। কুট্টি হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সাবেক মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীরের বিরুদ্ধে। 

এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে খুন হন কুট্টির স্বামী এম এ হাসান ওরফে হাসান মুহুরি।স্থানীয়দের দাবি, জয়নাল বাহিনীর সদস্যরা তাকে হত্যা করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একসময় বজলু মেম্বারকে কেন্দ্র করে চনপাড়ায় একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে ওঠে। তার সঙ্গে কুট্টি, তার স্বামী হাসান, শাহীন ওরফে সিটি শাহীনসহ একাধিক ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।



বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ চনপাড়া বস্তিতে নিহত হওয়ার পর ওই এলাকার অপরাধজগতের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। ফারদিন হত্যাকাণ্ডের পর সিটি শাহীন র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এবং বজলু মেম্বার পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে মারা যান। এরপর শাহবুদ্দিন ও মোক্তার হোসেন মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন। এ কাজে রিতা মেম্বার সহযোগিতা করতেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

চনপাড়ার নব কিশলয় বিদ্যালয়ের আশপাশের দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেখানে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই মাদক বিকিকিনি চলে। বস্তিতে সবচেয়ে বেশি মাদক বিক্রি হয় কাইলা রায়হানের বাড়ির সামনে।ওই বাড়িতে মাদকের গুদাম রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।


ফারদিন হত্যার পর বাড়িটি তালাবদ্ধ থাকলেও মাদকের কারবার বন্ধ হয়নি বলে তাদের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চনপাড়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বজলুর রহমান ছিলেন মাদক কারবারিদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। তিনি কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের চনপাড়া ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা যায়। বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো। সেই অর্থ রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ-বাটোয়ারা হতো বলেও জানান স্থানীয়রা।


চনপাড়া বস্তিতে আর একটি শক্তিশালি গ্রুপ ছিলেন জয়নাল বাহিনী। মাদক বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে পরবর্তীতে বজলু ওস্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং চনপাড়া ইউনিটের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নালের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। জয়নানের বিরুদ্ধে থানায় মাদক ও হত্যাসহ ২৩টি মামলা থাকার তথ্য রয়েছে। রাজা র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।



এই সব ঘটনার মধ্যে দিয়ে ২০১৮ সালের পর মোক্তার হোসেনের প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তিনি চনপাড়ার অপরাধজগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। এ সময় রাজধানীর গুলিস্তানে ‘রূপগঞ্জ খেলাঘর’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলেন তিনি।


চোখ রাখুন, দ্বিতীয় পর্বে- সবজি বিক্রেতা থেকে গুলিস্তানে ‘রূপগঞ্জ খেলাঘর’??

logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ জাহিদুল ইসলাম