নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 7:35 PM
রহনপুর পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ (পর্ব-১)
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ লেনদেনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। নাচোল পৌরসভার পাইপলাইন ও রাস্তা নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রহনপুর পৌরসভায় যোগদান করেন। এর আগে তিনি নাচোল পৌরসভায় কর্মরত ছিলেন। একই জেলায় তিনি ২৪ বছর কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগগুলো নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার কথাও জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নাচোল পৌরসভার পাইপলাইন ও রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের ঘটনায় ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয়েছিল। পরবর্তীতে উৎকোচের বিনিময়ে মামলা থেকে নিজেকে অব্যাহতি পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তবে ফ্যাস্টিস আওয়ামী লীগপন্থি প্রকৌশলী সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা হওয়ার কারণে তিনি থেকে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাহিরে।তবে সম্প্রতি তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যাম ফেসবুকে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া ভুয়া কাজ দেখিয়ে এবং ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের পাশাপাশি বর্তমানে এলজিইডি ও দুদকে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা গেছে।
অভিযোগের বাইরে ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে।অভিযোগকারীদের দাবি, তার সন্তান ঢাকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করেন। ঢাকায় তার ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। রহনপুর পৌরসভার মডেল স্কুলের সামনে একটি প্লট এবং বিভিন্ন স্থানে কৃষিজমি রয়েছে। এ ছাড়া গাইবান্ধা জেলা শহরের কোট এলাকায় চার ইউনিটের একটি ভবন, বাণিজ্যিক দোকান, গো-খামার ও কৃষিজমি থাকার অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি প্রকৌশলী (সিভিল) মো. আব্দুল মালেক সর্ম্পকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে। দুর্নীতির চিত্র, বাক স্বাধিনতা নামে একাধিক ফেসবুক পেজে তার দুর্নীতির চিত্র ছবি আকারে পোস্ট করা হয়। শেখ বুলু নামে একজন নেটিজেন লেখেন, রহনপুর পৌরসভা উন্নয়নের কাজে দুর্নীতির মহা উৎসব চলছে।
আওয়ামী লীগের লোকজন এখনও সক্রিয়। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলো রহনপুর পৌরসভার বর্তমান সচিব, পূর্বে ইঞ্জিনিয়ার ছিল মালেক ইঞ্জিনিয়ার। সে দুর্নীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, কেউ প্রতিবাদ করলে শান্ত মাস্তান আরো মাস্তান ভাড়া করে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যারা প্রতিবাদ করছে, তাদেরকে মানসিকভাবে হয়রানি, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে থাকে এই দুর্নীতিবাজ মালেক। মালেককে যত দ্রুত সম্ভব জবাবদিহিতায় আনতে হবে।
রহনপুর পৌরসভা হতে বের করে দিতে হবে এর সাথে বর্তমান প্রশাসক জড়িত বলিয়া বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। কাজের মান নিম্নমানের কেন, সরকারি কাজে নির্ধারিত কার্য তালিকা কাজের স্থানে টাঙানো হয় না, দুর্নীতির এটাই বড়
প্রমাণ। ঠিকাদারের সাথে আতাঁত করে এসব কাজ চলমান রাখিয়া অদ্যবধি দুর্নীতির মহা উৎসব চালিয়ে যাচ্ছে। এ সব দুর্নীতিবাজদের গণধোলাই দেওয়া জরুরি, না হলে আমরা নিজের কাছে অপরাধী হয়ে থাকবো। এটা আমাদের সকলের দায়িত্ব। সকলকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। যতবার ফোন দেওয়া হয়েছে ততবার তিনি ব্যাস্ত বলে ফোন কেটে দেন। পরে তিনি এসএমএস এর মাধ্যমে জানান ব্যস্ততার কারণে আপনার ফোন ধরতে পারিনি। এই কারণে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।তবে অভিযোগগুলো তাকে লিখিত পয়েন্ট আকারে পাঠানো হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।