ঢাকা ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশঃ জাতিসংঘে জিয়া পরিবারের অনবদ্য ধারাবাহিকতা জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনিক জটিলতার প্রতিবাদে মাদারগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ১ অক্টোবর উদ্বোধন, দুই রুটে চলবে বিআরটিসির এসি বাস পরীক্ষা শেষে জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : ইসি আনোয়ারুল প্রশাসনিক জটিলতার প্রতিবাদে মাদারগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন কেশবপুরে নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান টিটো(৪৬) গ্রেফতার মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশে মানবপাচার মাফিয়াখ্যত কে এই নাজমুল সমাজসেবক চাঁন মিয়া’কে- কাউন্সিলর হিসেবে’ পাওয়া সময়ের’ দাবি -৫৩ নং ওয়ার্ড (সচেতন) নাগরীকবৃন্দ জামাল পরিবারের নেতৃত্বে মুগদা এলাকায় বেপরোয়া মাদক ব্যবসা : থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নোয়াখালী জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মীর হোসেনের অবসর-পূর্ব দুর্নীতির দৌরাত্ম্য

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫,  2:12 PM

news image


নোয়াখালী জেলা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জেলা। এ জেলার গর্বিত বিদ্যাপীঠ নোয়াখালী জেলা স্কুল। এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বহু শিক্ষার্থী সিএসপি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সচিবসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হয়েও এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে অনেকে সম্মান ও মর্যাদা অর্জন করেছেন।


কিন্তু বর্তমান প্রধান শিক্ষক মীর হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে দুর্নীতির ফিরিস্তি গড়ে তুলেছেন, তা অভাবনীয় বলে অভিযোগ উঠেছে।


শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতির চিত্র কারো অজানা নয়। অভিযোগ রয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুকুরের মাছ বিক্রি থেকে শুরু করে পুরাতন ভবনের সিলিং ফ্যান, দরজা-জানালা ও অন্যান্য মালামাল বিনা টেন্ডারে বিক্রি করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ফেনীর প্রভাবশালী নেতা নিজাম হাজারীর ব্যক্তিগত তদবিরে আত্মীয় পরিচয়ে নোয়াখালী জেলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদায়ন পান মীর হোসেন-এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পদায়নের পর থেকেই তার দম্ভ ও দৌরাত্ম্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এমনকি অভিভাবকরাও আতঙ্কিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেত না কেউই। কারণ তিনি নিজেকে নিজাম হাজারীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং অভিনেতা ও চিকিৎসক এজাজের বেয়াই হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই পরিচয়ের দাপটে পুরো বিদ্যালয়জুড়ে এক ধরনের ভয় ও প্রভাব বিস্তার করে রাখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তার শেষ কর্মদিবস।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অদৃশ্য কারণে মীর হোসেনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি সাবেক এক জেলা প্রশাসকের মতে, তার দম্ভে জেলা প্রশাসনও অনেক সময় বিব্রত থাকত।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন খাতের অর্থ আত্মসাৎ করে নোয়াখালী জেলার প্রাণকেন্দ্রে তিনি নতুন বাসভবন নির্মাণ করেছেন। এতে অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যেও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে-একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে এত বিপুল অর্থের উৎস কী? নোয়াখালীতে ভূমির মূল্য এতটাই চড়া যে অনেক কোটিপতিও সেখানে জমি কিনতে ব্যর্থ হন। সে ক্ষেত্রে মীর হোসেন কীভাবে এই অর্থ সংগ্রহ করলেন-তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়াও বাৎসরিক ভর্তি বাণিজ্যেও তিনি পিছিয়ে ছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শুভাকাঙ্ক্ষীদের দাবি, তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। মীর হোসেনকে আইনের আওতায় না আনা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ধারাবাহিকতা অন্যদের মাধ্যমেও চলতে থাকবেএমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।এব্যাপারেঅভিযুক্তপ্রধানশিক্ষকমীরহোসেনেরবক্তব্যজানতেতারমোবাইলনাম্বারেচেষ্টাকরেপাওয়াযায়নি।


logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ জাহিদুল ইসলাম